আসেন শাফিউর রহমান ফারাবীর সৌজন্যে দাসী মারিয়া আর মহালুইচ্চা মহাউন্মাদের বিয়ার পোলাউ খাই

শাফিউর রহমান ফারাবী। সংক্ষেপে হারামি। এই হারামিটা থাবার খুন হওয়াটাকে সাপোর্ট করে। থাবার জানাজার ইমামকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল। একারণে গ্রেফতার হলেও পরে আবার ছাড়া পেয়েছে। ছাড়া পেয়ে আবার পাগলা কুত্তার মত নাস্তিকদের হত্যার হুমকি দিয়েই চলেছে। কারণটা অজানা। তবে এটাই আসল ইসলাম। ইসলামিক মতাবলম্বী বাদে আর সবাইকে এরা হত্যা করা আসছে সেই ইসলামের সূচনা লগ্ন থেকেই। এই হারামিটা সাম্প্রতিক আবার হত্যার হুমকি দিয়েছে মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ রায়কে। অভিজিৎ রায়ের অপরাধ তিনি তার একটা লেখায় নবীর দাসী ছহবতের কথা উল্লেখ করেছেন।

শাফিউর রহমান হারামিটার দাবী, নবী কোন দাসী ছহবত করেন নাই। করলেও আগে বিয়া করে তারপর করেছেন। তার এই বক্তব্যের প্রতিবাদ করে দাসী মারিয়ার সাথে নবীর ছহবত, এবং মারিয়ার গর্ভে ইব্রাহিম নামক এক জারজ সন্তানের কথা উল্লেখ করলে হারমিটা সীরাত গ্রন্থের রেফারেন্স দেয়-

01-seerat

সীরাত গ্রন্থগুলা নবীর জীবনীমূলক গ্রন্থ। এখানে কোরান-হাদিস থেকে কিছু তথ্য নিয়ে বাকিটা মনের মাধুরী মিশিয়ে নবীকে বিশাল তালেবর হিসাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ভালো ভালো কথা বলে শুধু নবীর পজেটিভ দিকটাই দেখানো হয়েছে। তো হারামিটাকে বলা হলো, সীরাতে তো কোরান-হাদিসের রেফারেন্স দিয়ে তার জীবনী লেখা হইছে, তাহলে কোরান-হাদিসের রেফারেন্স দে, দেখি কোথায় মারিয়ার সাথে নবীর বিয়ার কথা আছে।

সে এখানে বিশাল একখান পিছলামি দিয়েছে। সোজা বলে দিয়েছে কোরানেই নাকি বলা আছে যে মারিয়া মহাউন্মাদের স্ত্রী ছিল। এধরনের কথা যে এক প্রকার কোরান বিকৃতি, সেটা মুসলমানরা বুঝতে চাইবে না। কেননা আল্যার উপর যার বিশ্বাস আছে, সে কোরান হাদিস যতই বিকৃত করুক, তা ইসলামের পক্ষে গেলে তারা মনে করে সেটা জায়েজ।

02-koran

এরপর তাকে বলা হইছে, কোরানের ঠিক কোন জায়গায় এই কথা বলা হইছে? কিন্তু এই প্রশ্নের কোনো সোজা উত্তর নাই। কেননা কোরান-হাদিসের কোথাও মারিয়ার সাথে নবীর বিয়ার কথা স্পষ্ট কইরা বলা নাই। হারামিটা যখন একবার বেফাঁস কথা বলে ফেলেছে, তখন পরে বুঝতে পারছে যে সে ধরা খাইছে। কিন্তু তালগাছবাদীরা কখনোই ভুল স্বীকার করে না। বরং সেই ভুলের পিছনেও পিছলামী যুক্তি হাজির করে। হারামিটায় যুক্তি দিছে–কোরানে যেহেতু তালাকের কথা বলা আছে, আর তালাক তো মানুষ স্ত্রীকেই দেয়। সুতরাং মারিয়া মহাউন্মাদের স্ত্রী আছিল।

03

কোরান বিকৃতি করেও আবার সেই সীরাত গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছে। একটা জায়গায় সে দাবী করেছে প্রতিটা সীরাত গ্রন্থেই নাকি মারিয়ার সাথে মহাউন্মাদের বিয়ার কথা আছে।
আচ্ছা এইবার তাহলে সীরাত গ্রন্থে নজর দেয়া যাক। সবচেয়ে জনপ্রিয় সীরাত গ্রন্থ হলো আর রাহীকুল মাখতূম, যার মূল মুল রচয়িতা সফীউররহমান আল-মুবারকপূরী, অনুবাদক খাদিজা আখতার রেজায়ী। বইটি সম্পর্কে বলা আছে-

সৌদি আরবের সরকারী উদ্যোগে রাবেতা আলম আল ইসলামীর পক্ষ থেকে ১৩৯৬ হিজরী সনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন-চরিত বিষয়ক গ্রন্থ রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। তিনি সারা বিশ্ব থেকে প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণকারী ১১৮২জন প্রতিযোগীর মধ্যে প্রথম পুরস্কার লাভের এক দুর্লভ গৌরব অর্জন করেন। এ গ্রন্থটি সর্বস্তরের মানুষের নিকট অত্যন্ত সমাদৃত হয়েছে। সকলেই অত্যন্ত প্রশংসা করেছেন গ্রন্থটির। সবচেয়ে নির্ভর যোগ্য তথ্য সম্বলিত নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনী গ্রন্থ হিসেবে ‘আর রাহীকুল মাখতূম’ বিশ্বের বিখ্যাত উলামা ও গবেষকগণের যথেষ্ট প্রশংসা কুড়িয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে এ বইটি আমাদের প্রিয় মাতৃভাষা সহ পৃথিবীর অগণিত জীবন্ত ভাষায় অনুদিত হয়েছে।

এবার দেখি এই সর্বস্তরের মানুষের নিকট অত্যন্ত সমাদৃত বইটাতে মারিয়ার ব্যাপারে কী লেখা আছে-

seerat

হা-হা! যে সীরাত নিয়ে হারামিটা প্রথম থেকেই তর্ক করে আসছিল, সেই সীরাতেই স্পষ্ট করে বলা নবীর বিবি ছিল ১১ জন, সেখানে মারিয়ার নাম নাই। আর স্পষ্টভাবেই মারিয়াকে দাসী হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার গর্ভে ইব্রাহিম জারজটার কথাও বলা হইছে। শুধু তাই নয়, আরো ৩ জন দাসীর কথা উল্লেখ আছে।

অতএব অভিজিৎ রায় তার লেখায় নবীর দাসী ছহবতের কথা উল্লেখ করে থাকলে সেটা নিশ্চয়ই মিথ্যা নয়। বরং ফারাবি হারামজাদাটাই মিথ্যা বলে কোরান-হাদিস-সীরাত বিকৃত করে আসছে। সেটা দোষ নয়; দোষ হলো নাস্তিকরা এসব রেফারেন্স সঠিক ভাবে উল্লেখ করে যখন সত্য কথা বলে! আর এই সত্য কথা প্রকাশের জন্যই মুসলিম হারামিরা নাস্তিকদের কল্লা ফেলার ফতোয়া দিয়ে থাকে!

ফারাবি হারামি তার এই ভুলের জন্য মাফ চাইবে কিনা, সেটা তার ব্যাপার। তবে নাস্তিকদের হত্যার ফতোয়া দেয়ার জন্য মাফ না চায় এবং ভবিষ্যতে যদি ফের এসব করে তাহলে তার জন্য নবীকেই গালি খেতে হবে। শীঘ্রই নাজিল হতে যাচ্ছে- ইসলাম-আল্যা-নবীর চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করে খাঁটি বাংলা গালি সমগ্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *