পশ্চিম বাংলা না আবার গুজরাট হয়ে যায়

এরা বুদ্ধিজীবী?” শিরোনামে একটি লেখা সোস্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে। লিখেছেন সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়। ভদ্রলোককে চিনি না। তবে লেখাটি রেফারেন্স হিসেবে কাজে লাগতে পারে বিধায় পাল্লাব্লগে যোগ করে রাখা হয়েছে।

লেখাটি কাল চোখে পড়তেই বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করল। কারণ তার আগের দিন বাসায় বসে টিভিতে খবর দেখছিলাম–প্রায় প্রতিটা চ্যানেলেই ভারতের লোকসভা নির্বাচন নিয়ে খবর। ভোট শেষ হয়েছে। কিছু চ্যানেলে বার বার দেখাচ্ছিল ভোটের সম্ভাব্য ফল–এক্সিট পোল।

সবগুলোতেই ধরে নেয়া হয়েছে–বিজেপি আবার ক্ষমতায় আসবে। বাংলা চ্যানেলগুলোতে দেখাচ্ছিল পশ্চিম বাংলার খবর। সেখানে তৃণমূলের সিট কমছে, সিপিএম প্রায় হাওয়া হয়ে গেছে, বিজেপি অনেকটা জায়গা করে নিয়েছে।

ওই তিনটে পয়েণ্টই ভয়ঙ্কর। সামনে কী রকম দুর্দিন আসতে চলেছে, সেটা ভেবে গায়ে কাঁটা দিচ্ছিল। গত নির্বাচনে বিজেপি যেখানে মাত্র দুটি সিট পেয়েছিল, সেখানে এইবার দেখানো হচ্ছে যে তারা ১২-১৪টির মতো সিট পাবে। আর তৃণমূল ৩৪-এর জায়গায় নাকি পাবে ২৪টির মতো। কিন্তু ওই যে বাকিগুলোতে, যেখানে বিজেপি হারবে বলে ধরে নেয়া হচ্ছে, সেখানে তারা হারলেও ভোটের ব্যবধান খুব কম–২%-৫% ভোটের ব্যবধানে হারবে বলে দেখানো হচ্ছে।

একটা উদাহরণ দেই–ধরা যাক, যেখানে তৃণমূল ৪১% ভোট পেয়ে জিতবে বলে ধরা হচ্ছে, সেখানে বিজেপি পাচ্ছে ৩৮% ভোট। আর বলা হয় যে পশ্চিম বাংলায় মুসলিম ভোট ৩০%। এর প্রায় পুরোটাই পাচ্ছে তৃণমূল। যদিও হিসাবটা সব এলাকার ক্ষেত্রে খাটবে না, তবুও–তার মানে তৃণমূল হিন্দুদের ভোট পাচ্ছে ১০-১২%। (ভোটের ফলাফল বের হলে মোট প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা হিসাব করলে তখন হিসাবটা আসলে কী দাঁড়ায়, দেখার অপেক্ষায় আছি।)

যা বলছিলাম, সবার ধারণা ভারতে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি আবার আসছে, এবং দেখা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গেও এরা পিছিয়ে নেই। এবার না আসতে পারলেও সামনের বার এই ভোটের ব্যবধানে যে বিজেপি টপকে যাবে–যদি না তৃণমূল তাদের রাজনীতির ধারা পাল্টায়–সেটা বলা যায়। ধর্মবাদীর ধর্ম যা-ই হোক–হিন্দু হোক, মুসলিম হোক–এদের চরিত্রে খুব একটা পার্থক্য নেই। ভয়টা এখানেই…

তো এই ভোট নিয়ে হুজুরের সাথে কথা হচ্ছিল (হুজুর পশ্চিম বাংলার মানুষ)। তিনি বলছিলেন–তৃণমূল এবার কোনো রকমে ক্ষমতায় আসবে। সামনের বার যাতে বিজেপি আর না আগাতে পারে, তাই এখন থেকেই যারা বিজেপিকে ভোট দিয়েছিল তাদেরকে এমন ঠ্যাঙান ঠ্যাঙাবে যে সামনের আর আর ভোট দিতে যেতেই ভয় পাবে। এখানে উল্লেখ্য যে তৃণমূলের মূল শক্তি ওখানকার মুসলিমরা। তৃণমূলের মূল রাজনীতিই মুসলিম তোষণ। আর এতে সায় দিচ্ছে পশ্চিমবাংলার ওই তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা। যেখানে তাদের উচিত ছিল বিজেপির মতো ধর্মীয় দলকে প্রতিহিত করতে একটা সেক্যুলার আন্দোলনকে এগিয়ে নেয়া, সেখানে তারা সেটা না করে মুসলিম তোষণকে সমর্থন করে চলেছে। মাঝে মাঝে তো খবর পাওয়া যায়–পশ্চিম বাংলার কোনো কোনো এলাকায় হিন্দুরা মুসলমানদের জন্য পূজা করতেই ভয় পায়। কিন্তু হিন্দুরা আবার দিন দিন রামভক্ত হনুমান হয়ে উঠছে…. জয় শ্রী রাম… সবদিন তো লেজ গুটিয়ে বসে থাকবে না… বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হওয়া বাঙালদের মনে তো মুসলিমদের ব্যাপারে একটা ক্ষোভ আছেই… আর সেটা যদি বিজেপি হাওয়া দিয়ে একটু জাগিয়ে দেয়, তাহলে তো কথাই নেই…

হুজুর শেষে আরেকটা কথা বললেন–তৃণমূল বেশি বাড়াবাড়ি করতে থাকলে বিজেপি পশ্চিম বাংলায় দাঙ্গা বাধিয়ে দিয়ে আরেকটা গুজরাট কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলতে পারে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *