ধর্ষণ নিয়ে কিছু প্রচলিত ধারণা এবং আসল বাস্তবতা সহ আগের “হিন্দু নাস্তিকরা, সব কিন্তু দেখতাছি। একটু সাবধান!” পোস্ট নিয়ে আরো কিছু প্যাচাল

ধর্ষণ মূলত একটি সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় অপরাধ। রাষ্ট্র, সমাজ, আইন, প্রশাসন দূর্বল হলেই অন্যান্য অপরাধের মতও এটার মাত্রাও বৃদ্ধি পায়। এ কথা আগের পোস্টে বলা হয়েছে।

আগের পোস্টে আরো বলা হয়েছে, ধর্ষক দেখে তার শিকারটা কতটা সহজলভ্য। ডিসকভারি, ন্যাশনাল জিওগ্রাফি বা এনিম্যাল প্লানেটের মত টিভি চ্যানেলে দেখবেন, বাঘ, সিংহ, কুমির, এরা যখন শিকার করে তখন হাতের কাছে যেটাকে পায় সেটাকেই তার্গেট করে। এবং বেশিরভাগ সময় সেটা তার চাইতে কম শক্তিশালী হয়। অর্থাৎ দুর্বল এবং সহজলভ্যতাই শিকারের মূলমন্ত্র। ধর্ষণের ক্ষেত্রেও তাই।

পোস্টে আরো বলা হয়েছিল, “কেউ যখন ধর্ষণ বা এই টাইপের অপরাধ করতে যায় তখন সে দেখে না তার শিকারের চেহারা কেমন, তার প্রভাব-পতিপত্তি কেমন, তার ধর্ম কী, তার জাত কী- কোন কিছুই দেখে না।”- এইখানে ইচ্ছাকৃত কিছু ফাঁক-ফোকর রাখা হয়েছিল আলোচনার স্বার্থে।

ধর্ষণ নিয়ে একটা প্রচলিত ধারণা আছে যে মেয়ে বা নারীরাই তাদের চেহারা দেখিয়ে বা যৌনাবেদন সৃষ্টি করে ধর্ষকদের ধর্ষণ করতে প্রভাবিত করে। এটা সেই খাবার ঢেকে না রাখলে মাছি বসবে টাইপের কথা। কিন্তু ফ্যাক্ট বা আসল বাস্তবতা হলো, ধর্ষক কখনোই মেয়েদের চেহারা বা তাদের যৌনাবেদন কতটা, সেসব বিচার করে ধর্ষণের জন্য কাউরে টার্গেট করে না। অসহায় এবং সহজলভ্য এমন কাউরেই এটা টার্গেট করে। এজন্যই যারা যৌন অপরাধের শিকার হয় তাদের মধ্যে শিশু থেকে বৃদ্ধ বয়সের সবাই অন্তর্ভুক্ত। এমনকি অনেক সময় পশু-পক্ষিও ধর্ষণের শিকার হয়। তাই নারীর সুন্দরীত্ব, যৌনাবেদনময়তা ধর্ষণের ক্ষেত্রে কোন ব্যাপার না।

এবার ঐ লাইনটার “ফাঁফ-ফোকর” নিয়ে কিছু কথা-
যেহেতু গরীবরাই বেশী অসহায় এবং সহজলভ্য, তাই যাদের প্রভাব-পতিপত্তি বেশি তারা সাধারণত ধর্ষণের শিকার কম হয়। তবে ধনীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ধর্ষিতা হয় কাছের মানুষ, আত্মীয়-স্বজনদের হাতে।

ধর্ষণ নিয়ে আরেকটা প্রচলিত ধারণা হলো, যৌনাকাঙ্খা, যৌনচাহিদা নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারার ফলে এবং যৌন পরিতৃপ্তির উদ্দেশ্যেই ধর্ষণ সংঘটিত হয়। ধারনাটা ভুল। আসল বাস্তবতা হলো, যৌনচাহিদা মেটানোর উদ্দেশ্য নিয়ে নয়; শারীরিক সহিংসতা এবং আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্য নিয়েই ধর্ষণ করা হয়। স্বয়ং ভগবান যখন জলন্ধর দৈত্যের স্ত্রী এবং শঙ্খচূড় অসুরের স্ত্রীকে ধর্ষণ করেন কিংবা নবী ও তার অনুসারীরা যুদ্ধশেষে গনিমতের মালদের উপর ঝাপিয়ে পড়েন তখন সেটা কোন ভাবেই যৌনচাহিদা মেটানোর উদ্দেশ্য নিয়ে নয়, বরং শত্রুকে ধ্বংস করার উল্লাস বা তাদের উপর যে দখল হয়েছে সেই আধিপত্য বিস্তারের নমুনা হিসাবেই এটা করা হয়। এছাড়া কাউকে যখন তার মা-বোন তুলে গালাগালি করা হয়, সেটাও এই ধরনের ধর্ষনেচ্ছু মনোভাবের জন্যই হয়ে থাকে, সেটা মনের অবচেতন বা সচেতন- দুই অবস্থাতেই হতে পারে। বাস্তবে এদের হাতে ক্ষমতা থাকলে বা সুযোগ-সুবিধা থাকলে এরা ধর্ষণ করেই ছাড়ত।

ধর্মীয় ভাবে এক ধর্ম আরেক ধর্মকে প্রতিপক্ষ মনে করে। এক্ষেত্রে ইসলামের তুলনা মেলা ভার। বিধর্মীদের উপর আধিপত্য বিস্তারের জন্য “গনিমতের মাল” টার্মটা তো আছেই। সেই সাথে পরকালে আরো অনেক সুযোগ-সুবিধার কথাও বলা হয়েছে। তাই বিধর্মীদের ধর্ষণ করার ব্যাপার মুসলমানদের মধ্যে উৎসাহের কমতি কোনকালেই ছিল না। এ যেন সেই এমনিতেই নাচুনে বুড়ি, তার উপর ঢোলের বারির মত অবস্থা! যখন সহজলভ্য ছিল তখন ’৭১-এ আমরা পাকিদের দেখেছি। ৯২-তে দেখেছি। ২০০১-এ দেখেছি। এখনো দেখে যাচ্ছি।

এখানে আরেকটা ব্যাপার প্রাসঙ্গিক- সেএণ্ডক্স প্রাণীজগতের শারীরিক ও মানসিক সুখ লাভের একটা উপায়। সানি লিয়নরা ধর্ষণকে যতই “সারপ্রাইজ সেএণ্ডক্স” বলেন না কেন, ধর্ষণ অবশ্য ‘সারপ্রাইজ” হতে পারে কিন্তু কোনভাবেই “সেএণ্ডক্স” নয়; শুধুই সহিংসতা।

আগের পোস্টঃ “হিন্দু নাস্তিকরা, সব কিন্তু দেখতাছি। একটু সাবধান!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *