ছাগু আর জঙ্গী মুসলিমের মাঝে পার্থক্য ঠিক কোথায়, বলুন তো?

লিখেছেনঃ আরিফুর রহমান

ছাগুদের সংঘবদ্ধতা নিয়ে আমরা অনেক আগে থেকেই অবগত ছিলাম। ছাগু বলতে মুক্তিযুদ্ধের সময় কৃত অপরাধের সমর্থক এবং রাজাকারদের নতুন প্রজন্মকেই বোঝানো হয়ে থাকতো। ব্লগ পরিমন্ডলে ‘স্প্যামিং’ নামক এক অপরাধ এদের হাতে সমৃদ্ধ হয়েছে। ‘স্প্যামিং’ বলতে সাধারনত অবাঞ্ছিত ইমেইল বোঝানো হতো। কিন্তু এরা শব্দটির অর্থ না বুঝেই সংঘবদ্ধভাবে মশার ঝাঁকের মতো সভ্য জগতের বিবিধ ব্যবস্থাকে আক্রমন করে পুরো ব্যবস্থাটিকেই পর্যদুস্ত করে দেয়াকে স্প্যামিং বলতে চাইছে।

সামাজিক ব্লগিং সাইট সামহোয়ারইনব্লগে অশ্লীল এবং আপত্তিকর পোস্টের বিষয়ে ‘অভিযোগ জানান’ জাতীয় একটা ব্যবস্থা ছিলো, আমাদের স্প্যামিং ছাগুরা তাদের অপছন্দনীয় বিবিধ পোস্ট বিষয়ে ঝাঁক বেঁধে অভিযোগ জানাতো। কর্তৃপক্ষও শত শত অভিযোগ পেয়ে শশব্যস্ত হয়ে পোস্ট মুছে দিতো বা লেখককেই ব্যন করে দিতো। তাদের “ধারনা” ছিলো আসলেই বুঝি শত শত সাধারন ব্লগ ব্যবহারকারী আপত্তি জানাচ্ছে।

বাস্তবতা যদিও ভিন্ন ছিলো। রেজিস্ট্রেশন সুবিধার অপব্যবহার করে তারা অসংখ্য নিক তৈরি করতো, এক একজন ব্যাক্তি তৈরি করতো অসংখ্য চরিত্র। প্রতিটি চরিত্র আলাদা করে রিপোর্ট করে এক ধরনের ঝড়ের অনুভূতি তৈরি করতো কর্তৃপক্ষের সামনে। অথচ পেছনে ব্যাস্ত ছিলো মাত্র কিছু চরিত্র।

একজন ব্যাক্তির একটিই অনলাইন পরিচয় থাকবে বলেই আমরা, সাধারন ব্লগাররা মনে করে থাকি। অন্ততঃ শতকরা ৯৫ ভাগেরই একটির বেশি পরিচয় রাখার প্রয়োজন বোধ করি নাই। কাজেই যখন আমরা কোথাও একশটি লাইক, কিংবা একশটি মন্তব্য দেখি, আমরা ধরে নেই আসলে একশজনই বুঝি মনযোগ দিচ্ছেন।

একটি বাস্তব জনসভায় আপনি চারপাশে তাকিয়ে একশজন ‘জন’ দেখে নিশ্চিত হন যে সত্যিই একশ ব্যাক্তি সেখানে রয়েছেন। অনলাইনে কিন্তু সেটি নাও হতে পারে।

এবং অনেক ক্ষেত্রেই ঘটনা সবসময় যা দেখায়, তা সত্যি সত্যি নয়। ছাগুদের অনলাইন ‘ম্যানিপুলেশন’ বলে একটা ‘অপরাধ’র শিকার আমরা হয়ে এসেছি এতোদিন, এখন তার সাথে যুক্ত হয়েছে মডারেট মুসলিমের ছদ্মবেশে আরেক ধরনের উগ্র মুসলিম।

অধুনা, ফেসবুকের ‘রিপোর্ট’ ব্যবস্থার অপব্যবহারে ছাগুদের সাথে হাত লাগিয়েছে উগ্র মুসলিমের এই স্প্যামার-পাল। তাদের নিজস্ব গোপন খোঁয়াড় আছে, যেখানে ধ্বসে পড়া চরিত্রের অমি পিয়াল বা এমনি কেউ একজন ধর্মরক্ষার নাম করে কিংবা নাস্তিক ঠেকানোর উছিলা ধরে মশার ঝাঁকের মতো ছাগুপালকে লেলিয়ে দেয়। ফলাফল হলো প্রতিবাদী পোস্ট কিংবা স্ট্যাটাস ‘গায়েব’ হয়ে যাওয়া।

আমরা চিন্তা ও কথার স্বাধীনতার কথা বলি। কিন্তু বাংলাদেশে উগ্র মুসলিম, জঙ্গী মুসলিম নানাপদের মহামারী সউদি থেকে আমদানী হয়ে এমনই গেঁড়ে বসেছে যে রাস্তাঘাটে এরা আপনার গলা কেটে ফেলবে, আর অনলাইনে আপনার স্ট্যাটাস, ব্লগপোস্ট কিংবা একাউন্ট ‘গায়েব’ করে দেবে।

ভার্চুয়াল জগতে আমাদের যে ‘অস্তিত্ব’ তা আক্রমন করে নষ্ট করা আর অফ-লাইন বাস্তব জগতে ব্লেড দিয়ে গলা চিরে দেয়ার মাঝে তুলনাগত কোন পার্থক্য নেই।  আর ঝাঁক বেঁধে ভুয়া পরিচয় দিয়ে সিস্টেমের দুর্বলতার অপব্যবহার করাকে অপরাধই বলা উচিত।

এখন কারা এই সংঘবদ্ধতার ‘টার্গেট’ হচ্ছে বলে আপনি মনে করেন? সাধারন ব্লগার/ফেসবুকস্থ? না, বাকস্বাধীনতার ঘোর বিরোধী এই ছাগুদের সংঘবদ্ধতার শিকার হচ্ছে সরব এবং প্রতিবাদমুখর শিক্ষিতগন।

এখন আপনি বলতে পারেন ছাগুরা কি শিক্ষিত নয়? আমি বলবো তারা প্রশিক্ষিত বাঁদর ছাড়া আর কিছু নয়। কারন তাদের পড়াশোনার সময়টা কেটেছে কিতাব মুখস্ত করে কিংবা সউদিয়ারবে কামলা দিয়ে।

অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন, তো আমরাও এমনটা শুরু করি না কেন?

আমার উত্তর হলো, কুকুরের কাজ তো কুকুর করবেই? তারা দলবেঁধে ঘেউ ঘেউ করলে আপনিও কি হাঁটু মুড়ে তাদের মতো করে ঘেউ ঘেউ করবেন?

অথবা রাজাকারেরা আমাদের পুর্বপূরুষদের হত্যা করেছিলো বলে আমরা কি রাজাকারদের ধরে নিয়ে মেরে ফেলবো? মোটেও না। আমরা সভ্য জাতি, আইনী প্রক্রিয়ায় বিচার পদ্ধতি যে রায় দেবে তাই হবে। আমরা দল বেঁধে গোলাম আজমকে বারডেম হাসপাতাল থেকে বের করে রাস্তায় বাঁশের ডগায় ঝুলিয়ে মেরে ফেলবো না। কারন আমরা উগ্র মুসলিমদের মতো অসভ্য না।

এখন যারা অসভ্যের মতো গালিগালাজ করছে, এবং দল বেঁধে ফেসবুকের দুর্বলতা’র অপব্যবহার করে স্ট্যাটাস (বাংলায় পড়ুন কথা, বাক, চিন্তা) মুছে দেয়াকে কি বাকস্বাধীনতার প্রতি আক্রমন বলবেন না?

আমার সমস্যা হলো আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে অমি পিয়াল ওরফে চটি পিয়াল যেভাবে মুক্তমনাদের উদ্দেশ্যে নোংরামি শুরু করেছে, এবং তার কিছু পোষা কুকুর যেভাবে ঘেউ ঘেউ করছে, তাতে বাংলাভাষী অনলাইন খুব শীঘ্রই ছাগু অধ্যুষিত একটা ভাগাড়ে পরিনত হবে।

আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে পুঁজি করে বাংলাদেশের বারোটা বাজানোর চেষ্টা অনেকবারই হয়েছে। বুঝে কিংবা না বুঝে আমরাও তাতে হয়তো যোগ দিয়েছি, কিন্তু দিনশেষে আমাদের চিন্তা করতে হবে ভবিষ্যতের কথা।

এই যে অনৈতিক গলা চেপে ধরা, ছুরি চালিয়ে দেয়াকে তথাকথিত সেলিব্রেটি কেউ কেউ উষ্কে দিচ্ছেন, তাদের সেলিব্রেটিত্বের উৎস বোধ করি সেই ভুয়া নিক গোষ্ঠীর যৌগিক লাইকবাজি, কিংবা ছাগু এবং পিয়ালের কুকুরদর মিলিত ঘেউ ঘেউ।

ঘেউ ঘেউ বাহিনী সম্পর্কে সচেতন হৌন। এদের আশকারা দেবেন না।  এরা আদতে ছাগুদেরই ভিন্ন মুখোশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *