সত্য সন্ধানী সত্যের পথিক মুহাম্মদ

সবাই জানেন–তিনটি আব্রাহাম্মক ধর্মের বড় ভাই হলো ইহুদি, মেজো ভাই হলো খ্রীষ্টান, এবং ছোট ভাই হলো ইসলাম। আব্রাহাম বা ইব্রাহিমের সূত্র ধরেই এই তিনটি ধর্মের শাখা-প্রশাখা বের হয়েছে।

জন্মসূত্রে ইহুদি হওয়া ছাড়া এই ধর্মে যোগদানের তেমন সুযোগ ছিল না। খুব সম্ভবত এই সীমাবদ্ধতাই ইহুদি ধর্ম থেকে একটি শাখা বের হয়ে খ্রীষ্টান ধর্ম নামক আরেকটা ধর্মের সৃষ্টির অন্যতম বড় কারণ। প্রাকটিসের দিক দিয়ে একটু এদিক-ওদিক হলেও ধর্মের মূল কাহিনীগুলো প্রায় একই রয়ে গেলো।

ইসলাম ধর্মের বেলাতেও তাই। কিঞ্চিত পরিবর্তন-পরিবর্ধন ব্যতীত মূল কাহিনী সেই ইহুদি-খ্রীষ্টান ধর্মের গোড়া ইব্রাহিমেই রয়ে গেলো।

পৌত্তলিকতার মধ্যে জন্ম নিয়ে মুহাম্মদ পরিবেষ্টিত ছিল ইহুদিদের দ্বারা। এছাড়া যখন খাজিদার কাজের লোক হিসাবে ব্যবসার কাজে বাইরে যেত, তখন খ্রীষ্টান ধর্মের সাথে পরিচয় হয়, সেই ধর্মের গল্প-কাহিনী জানা হয়।

ইসলাম ধর্ম প্রচারকালে আগের দুই ধর্মের সেইসব শোনা কাহিনীও ইসলাম ধর্মে কপিপেস্ট করে। আবার যেহেতু শোনা কাহিনী, সেহেতু তাতে অনেক ভুলভালও ছিল, যার প্রভাব কোরানেও পড়েছে। যেমন, বাইবেলে ট্রিনিটি বলতে পিতা (ঈশ্বর), সন্তান (যিশু) আর হলি স্পিরিটকে বুঝায়, সেখানে কোরানে এই তিনটি জিনিস উল্লেখ করতে গিয়ে পিতা, সন্তান ও মেরির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ব্যক্তিগত ভাবে মনে হয়, খ্রীষ্টান ধর্মের ওইসব গল্প-কাহিনী শুনে তাতে মুহাম্মদ কিছু ভুল পেয়েছিল, এবং সেই ভুল সংশোধন করার চিন্তা করতে করতেই নতুন একটা ধর্ম সৃষ্টির কথা তার মাথায় আছে। ভুলটা কী?

তোরাহ-বাইবেলে আছে– দুইভাই হাবিল-কাবিলের মধ্যে মারামারি লাগলে কাবিল হাবিলকে মেরে ফেলে। হাবিলকে হত্যা করলে ঈশ্বর কাবিলকে অভিশাপ দেয় ওই ভাইয়ের রক্তে রঞ্জিত জায়গায় আর গাছপালা হবে না। ফলে কাবিল পুর্বদিকে নোদ নামক এক দেশে নির্বাসনে যেতে বাধ্য হয়। সেখানে কাবিলের এক সন্তান হয়। কিন্তু এই ছেলে কার গর্ভে? খুব সম্ভবত মুহাম্মদের মনে এই প্রশ্ন জেগেছিল।

আদম-হাওয়া প্রথম মানব-মানবী। তখন দুনিয়ার আর কোথাও মানুষ থাকার কথা না। তাহলে নোদ দেশে কাবিলের সন্তান হলো কিভাবে? কার গর্ভে? তাহলে নিশ্চয়ই সেখানে অন্য কোনো জনগোষ্ঠী ছিল। তাহলে আদম-হাওয়া প্রথম মানব-মানবী–তোরাহ-বাইবেলের এই কাহিনী ভুল! এই ভুলটা মুহাম্মদ ধরতে পেরেছিল। এভাবে হয়তো আরো অনেক ভুল ধরেছিল যা পরে কোরানে স্বীকার করা হয়েছে, এবং সেসব জিনিসগুলো বাতিল করে দিয়ে নতুন কাহিনী প্রচলন করছে।

তবে আদম-হাওয়া প্রথম মানব-মানবী–এই ধারণা থেকে মুহাম্মদও বের হতে পারে নাই। আর পারে নাই বলেই এই কাহিনীকে কোনদিকে নেবে, সে ব্যাপারেও দক্ষতার পরিচয় দিতে পারে নাই। তাই কাহিনী এমন জগাখিচুড়ি পাকিয়েছে যে এখন পড়াশোনা জানা মুসলমানরা পর্যন্ত বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়–হাবিল-কাবিল তাদের মা হাওয়াকে বিবি বানিয়েছিল। তারপর পরবর্তী বংশধরদের জন্ম হয়। আর পরের দিকে নাকি আদম-হাওয়ার জোড়ায় জোড়ায় ছেলে-মেয়ে হত। তারা একে অপরের সাথে মিলিত হয়ে পরবর্তী প্রজন্মের সৃষ্টি করেছে। মহাম্মদ আরেকটু বিচক্ষণতার পরিচয় দিলে হয়তো আরো সুন্দর বাস্তবসম্মত কোনো গল্প বানাতে পারত।

সবশেষে এটাই বলব, মুহাম্মদ অন্তত প্রগতিশীল মানুষ ছিল। সে ধর্মের কাহিনীতে ভুল পেয়ে তার সময়ের সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকে যতটুকু সাধ্য ছিল, সে চেষ্টা করে গেছে সত্যকে জানতে। এখন তার জানাতে যদি যদি ভুল পেয়ে থাকেন, তাহলে আপনাদেরও উচিত হবে মুহাম্মদের মত আগের ভুলে ভরা ধর্মগুলোর অবাস্তব কল্প-কাহিনী ত্যাগ করে তারই মত প্রকৃত সত্যকে জানার চেষ্টা করা।

0 thoughts on “সত্য সন্ধানী সত্যের পথিক মুহাম্মদ

  1. এই হারামজাদা অন্ধ। ইহুদি ও খ্রিষ্টান নামতো মানুষেরবানানো। আপনি ইসলাম ও অন্যান্য ধর্মের পার্থক্য পান না। অনেক পার্থ্ক্য আছে। সব বলার সময় নেই। ইসলামে আল্লার সন্তান নেই ওই দুই ধর্মে আছে। ওই দুইধর্মে আল্লা তিনের এক। ইমলামে আল্ল একজন। তোকে আল্লা ফেরাউনের মত খরবে কাফির কোথাকার। আল্লাকে ভয় কর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *