প্রথাবিরোধী মুহাম্মদের উত্তরসুরীই কি হুমায়ুন আজাদ

লিখেছেন- আসিফ মহিউদ্দিন

একদিন বর্বরদের দেশ আরবে একজন সাধারণ মানুষ বাপদাদার ধর্ম ত্যাগ করে সেই সময়ের সমাজ, ধর্ম, প্রথা এবং সংস্কৃতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে গেলেন। সেই দেশের প্রচলিত ধর্মের নামে অনাচার, মূর্তিপুজা, মেয়েদের জন্মের সময়ই মাটিতে পুতে ফেলার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালেন। তিনি বললেন, এই সব অনাচার বন্ধ হোক, এই সব আইন মানি না। ধর্মের নামে কোন অনাচার চলতে দেয়া হবে না।

এরপরে শুরু হলো তার উপরে নিদারুন অত্যাচার। তার অনুসারীদের হত্যা করা হলো, তাকে ভয়ভীতি দেখানো হলো। তাকে বলা হলো প্রচলিত দেবতাদের সম্মান করে কথা বলতে, তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না করতে।

কিন্তু তিনি দমে গেলেন না। প্রতিবাদ আর প্রতিরোধে মুখর হলেন। চেষ্টা চালিয়ে গেলেন বর্বর আরবদের বর্বর সব প্রথার বিরুদ্ধে। শক্তিশালী বক্তব্য দিয়ে আঘাত করতে লাগলেন সেই সব প্রথা নামের অনাচারের বিরুদ্ধে। পৌত্তলিক ধর্মগুলোকে প্রশ্ন করলেন, সন্দেহ করলেন, এবং অবিশ্বাস করলেন, বাতিল ঘোষণা করলেন। মূর্তিগুলো ভেঙ্গে দিলেন।

প্রথা এবং ধর্মবিরোধীতার অভিযোগে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হলো। তিনি পালিয়ে গেলেন মদিনায়।সেই লোকটার নাম ছিল মুহাম্মদ। সময়টা ৬০০ সালের কিছু পরে। আজও তার অনুসারীরা তার তৈরি প্রথা পালন করে, তাকে অনুসরণ করে। ঠিক যেমনটা মুহাম্মদের সময়কালের আরবের জনগনও পালন করতো তাদের পুর্বপুরুষের তৈরি করে দিয়ে যাওয়া ধর্ম।

এরপরে ধীরে ধীরে মুহাম্মদের অনুসারীরাও সেই প্রথাকে আকড়ে ধরে রাখলেন। সময়ের সাথে সাথে যে সমস্ত প্রথা এবং ধর্মেরও সংস্কার প্রয়োজন, সব আইনের সংস্কার প্রয়োজন, সেটা বেমালুম ভুলে গেলেন। তাদের কাছে মুহাম্মদই হয়ে উঠলো আরেক প্রথার নাম। যিনি সমাজ সংস্কার করেছিলেন, যিনি প্রথা ভেঙ্গে ছিলেন, যিনি সে সময়ের ধর্মকে গুড়িয়ে দিয়েছিলেন, তিনিই হয়ে উঠলেন আরেক মূর্তি!!! আরেক প্রথা!!! আরেক ধর্ম!!!

২০০৪ সালের দিকে ঢাকায় এই সময়ের প্রথা এবং ধর্মকে অস্বীকার করবার জন্য, তার বিরুদ্ধে সোচ্চার কন্ঠস্বর হয়ে ওঠার জন্য একজন প্রথাবিরোধীকে হত্যা করা হলো। তিনিও প্রচলিত ধর্মকে অস্বীকার করেছিলেন, তিনিও প্রথার উপরে জ্ঞানের কুঠারাঘাত করেছিলেন। সেই মানুষটার নাম হুমায়ুন আজাদ। আইয়ামে জাহেলিয়াতের আমলে যারা মুহাম্মদের উপরে নির্যাতন করেছিলেন, প্রথা এবং ধর্মবিরোধীতার কারণে যারা মুহাম্মদকে নির্যাতন করেছিল, তারা ছিল সেই সময়ের ধর্মান্ধ এবং মৌলবাদী, তারাই ছিল সেই সময়ের প্রথা সমুহের রক্ষক। তাহলে প্রশ্ন দাঁড়ায়, মুহাম্মদের বর্তমান সময়ের অনুসারীরা আজকে আসলে কার অনুসরণ করছে? আইয়ামে জাহেলিয়াতের সেই সকল কাফেরদের, নাকি মুহাম্মদের? কিন্তু আইয়্যামে জাহেলিয়াতের সময়ে মুহাম্মদের বিরোধীতাকারী সেই সকল কাফেরদের চরিত্রের সাথে এই সময়ে মৌলবাদীদের এত মিল কিভাবে? প্রথাবিরোধী মুহাম্মদের উপরে নির্যাতনের বিরোধীতা তারা করে, অথচ নিজেরাই আরেকজন প্রথাবিরোধীকে হত্যা করে!!! তাহলে প্রথাবিরোধী মুহাম্মদের উত্তরসুরীই কি হুমায়ুন আজাদ? আর আজকের মৌলবাদীরা কি সেই সব নির্যাতক কাফেরদেরই বংশধর?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *