গ্রীক-রোম-মিশরীয় মিথগুলোকে সাহিত্যের অন্যতম উপাদান হিসাবে ব্যবহার করলে রামায়ণ-মহাভারতের দোষ কী

লিখেছেন- Sannyasi Sanyasi

ভারতীয় উপমহাদেশের মিথোলজির প্রধান গ্রন্থ মহাভারত ও রামায়ন। এছাড়া বিভিন্ন পূরাণ রয়েছে। দু:খের ব্যাপার হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেহেতু তাদের প্রাচীন ধর্মকে ত্যাগ করেনি তাই এগুলো তাদের ধর্মগ্রন্থ হিসেবে রয়ে গিয়েছে এবং এই অজুহাতে ভারতীয় উপমহাদেশের অন্য ধর্মের অনুসারীরা সাহিত্যের এই বিরাট উপাদান ‘মিথোলজি’কে বেশ সতর্কতার সাথে এড়িয়ে গিয়েছে। এমনকি আমার মত হিন্দু ঘরে জন্ম নেয়া নিধর্মীরাও ওগুলো ধর্মগ্রন্থ বিবেচনা করে পড়ার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেনি। পূর্বের কিছু সাহিত্যিক ছাড়া বর্তমানে আমাদের দেশের বেশিরভাগ শিক্ষিত মুসলমান এমনকি হিন্দু সাহিত্যিকরাও তাদের সাহিত্যে এসব মিথের তেমন মিশেল ঘটায় না; অথচ আমাদের অনেক লেখককেই দেখি গ্রীক-রোম-মিশরীয় মিথগুলোকে তাদের সাহিত্যের অন্যতম উপাদান হিসেবে ব্যবহার করছে। ব্লগার ইমন জুবায়েরসহ কয়েকজনতো মিথিক্যাল সাহিত্য নিয়ে লিখে খুবই জনপ্রিয়। অথচ তাদের লেখায় উপমহাদেশীয় মিথকে স্বযত্নে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। রামায়ন বা মহাভারত এমন কোন দুর্লভ গ্রন্থ নয়, তবুও আমাদের দেশের লেখকদের এই বইদুটো এড়িয়ে চলার একটামাত্র কারণই আমার কাছে বিবেচ্য হয়। সে কারণটি ধর্ম বই আর কিছুই নয়।

শিশুদের পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে উপেন্দ্রকিশোর রচনাসমগ্র খুবই ফলদায়ক হিসেবে বিবেচনা করি আমি। এতে প্রায় সব ধরনের শিশুতোষ গল্প, বিজ্ঞানের গল্প, আবিস্কারের গল্পসহ রয়েছে শিশুদের উপযোগী করে লেখা রামায়ন ও মহাভারত। ছয়-দশ বছরের প্রত্যেক বাবা-মারই তার সন্তানের জন্য এই বইটি কিনে দেয়া উচিত বলে মনে করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *