তোমারে বধিবে যে…

সেকালে : তোমারে বধিবে যে, গোকুলে বাড়িছে সে।
একালে : তোমারে বধিবে যারা, ‘ফেবুতে’ বাড়তে দিছে তারা।

কয়দিন আগে পোস্ট দিয়েছিলেম। আসলে অনেক বিষয় মাথার মধ্যে ঘুরছে। বলছিলাম সময় পেলে খুলে বলা যাবে। তার আগে বলে রাখি–নির্দিষ্ট কারো প্রতি আমার কোনো শত্রুতা বা বিদ্বেষ বা কোনো স্বার্থ জড়িত নেই। পুরো বিষয়টাকে সামগ্রিক ভাবে দেখলে আসলে কাউকে দোষ দেয়াও যায় না। সবাই পরিস্থিতির শিকার… দোষ দিতে গেলে শেষে ভগবানেশ্বরাল্লা পর্যন্ত গিয়ে ঠেকে। আর শেষে বলতে হয়–ভগবানেশ্বরাল্লা যা করে ভালোর জন্যই করে–এই বলে সান্ত্বনা দিয়ে বা পেয়ে চুপ থাকতে হয়। নাস্তিক বলেই দায়টা ভগবানেশ্বরাল্লার উপর চাপাতে পারি না। তাহলে ওই “তারা” কারা? দেখা যাক মাথার মধ্যে কীসব চিন্তাভাবনা, অনুমান, সন্দেহ ঘুরছে–

এটা তো ঠিক যে–উল্লেখযোগ্য ব্লগার, ফেসবুকার, নাস্তিক, প্রগতিশীল, সেক্যুলার, বড় ভাই, ইত্যাদি পরিচয়ে যেসব সরকার গোয়েন্দা প্রশাসন পুলিশের দালাল বা সোর্স আমাদের চারপাশে আছে তাদের মধ্যে মশিউর রহমান বিপ্লব একজন। একে ধরেই আগানো যাক–

এটাও তো ঠিক যে, মশিউর রহমান বিপ্লব ব্লগার রাসেল আর সুব্রত শুভকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিয়েছিল। ডিবি পুলিশ প্রথমে তাকে ডেকে নিয়ে ব্লগার শর্মীর ইনফো চেয়েছিল। সৌভাগ্যবশত শর্মীর ইনফো মশিউরের কাছে ছিল না। তবে ফাঁদ সে আগে ঠিকই পেতেছিল– থাবাবাবাকে দিয়ে। থাবাবাবা শর্মীর সাথে দেখা করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছিল। শর্মী সুব্রত শুভকে নিয়ে তার সাথে দেখা করেও ছিল। ভাগ্যিস শর্মী থাবাবাবাকে কোনো ইনফো দেয় নি।

তো সরকারের গোয়েন্দা বাহিনী তখন শর্মীর ইনফো কেন খুঁজছিল, সে প্রশ্নটা এক সাইডে রেখে সামনে আগাই। ডিবি পুলিশ মশিউরকে ডেকেছিল ইনফোর জন্য। কিন্তু সে ইনফো জানত না। এটা ডিবি পুলিশ বিশ্বাস করে নি, বা মশিউর ডিবি পুলিশককে বিশ্বাস করাতে পারে নি। এই নিয়ে তাদের মধ্যে কিছুটা সমস্যা হয়েছিল হয়তো। এই সমস্যার পরেই সে কৌশলে ব্লগার রাসেলকে ডেকে ডিবি অফিসে ডেকে নেন। ভাবছিল হয়তো রাসেল তাকে সাহায্য করতে পারবে। রাসেলও ইনফো জানত না। তখন তার মনে পড়ে, শর্মী যখন থাবাবাবার সাথে দেখা করতে গিয়েছিল তখন শর্মীর সাথে শুভ ছিল… তাহলে শুভ শর্মীর ইনফো জানতে পারে। তখন সে শুভর ইনফো দিলে ডিবি পুলিশ জগন্নাথ হল থেকে রাতের বেলা শুভকে তুলে নিয়ে যায়। তুলে নেয়ার সময় গাড়িতে পুলিশের সাথে মশিউরও ছিল।

২) ব্লগার গ্রেফতারের ঘটনাটা ঘটেছিল অর্থাৎ মশিউরকে ডিবি পুলিশ ওই ব্যাপারে ডেকেছিল থাবাবাবাকে হত্যা করার পরে। শুধু ধর্মবিরোধিতার কারণে নাস্তিকদের হত্যা করা হয়–এই কথাটা এখন আর মানা যাচ্ছে না। শাহবাগ আন্দোলনের শুরুতেই লীগ সরকার এই আন্দোলনের হাল নিজের হাতে নিয়ে নেয়। বিরোধীরা নাস্তিকতাকে ইস্যু করে পালটা চাল দিলে সরকারের নিজের স্বার্থে দরকার হয়েছিল শাহবাগীরা নাস্তিক–এই ট্যাগ ঝেড়ে ফেলার। পলিটিক্স বুঝলে বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা না যে থাবাবাবাসহ আর সব নাস্তিক হত্যার ছকগুলো সরকারের গোয়েন্দা বাহিনীরই আঁকা। লীগ সরকার যে নাস্তিক না, তারা নাস্তিকদের বিপক্ষে–দেশের মানুষের কাছে এটা প্রমাণ করাই মূল উদ্দেশ্য। আমরা দেখেছি, ওই সময়টাতে যখনই সরকার ফাঁদে পড়েছে বা নতুন কোনো ইস্যু সৃষ্টি করে পুরাতন কিছু চাপা দেয়ার দরকার হয়েছে, তখনই নাস্তিক কোতল হয়েছে। যখন নাস্তিক পাওয়া যায় নাই, তখন নাস্তিকদের সাথে মেলামেশা আছে, বা একটু ইসলামের বিপক্ষে অবস্থান আছে, এমন মানুষদের টার্গেট করা হয়েছে।

[এর মধ্যে একবার আবার নাস্তিকদের পুলিশি প্রোটেকশন দেয়ার নাটকও করা হয়েছিল। সেটা শাহবাগ আন্দোলনের স্বার্থেই। থাবাবাবা কোতল হলে নাস্তিকরা যদি ভয় পেয়ে শাহবাগ থেকে সরে যেত তাহলে আন্দোলন অতটা দানা না-ও বাঁধতে পারত–এটাই ছিল সরকারের ভয়।]

নাস্তিক কোতলে কিছুটা হলেও পূর্ব প্রস্তুতি ও প্লান লাগে। সেজন্য যাকে টার্গেট করা হবে, তার ইনফো লাগে। এই ইনফোগুলো গোয়েন্দারা কাদের কাছ থেকে পায়? নাস্তিকদেরই মাঝে মুখোশ পরে থাকা পুলিশের সোর্সদের কাছ থেকে। থাবাবাবার ইনফো সবচেয়ে ভালো জানত মশিউর রহমান বিপ্লব (অবশ্য এই লোকের আরো অনেক সহযোগী আছে)। অপরাধীদের একটা মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার আছে–এরা সন্দেহের তীরটা অন্য কারো দিকে ঘুরিয়ে দিতে চায়। যখন জিজ্ঞেস করবেন কাকে সন্দেহ হয়, তখন এরা এদের প্রতিপক্ষ বা ব্যক্তিগত শত্রু বা কাউকে ফাঁসাতে অন্য কাউকে সন্দেহের কথা ব্যক্ত করে। মশিউরও কয়েকবার পাল্লার কাছে জানতে চেয়েছিল করেছিল যে, থাবাবাবার ইনফো কে লিক করতে পারে… অমি পিয়ালকে সন্দেহ হয় কি না, ইত্যাদি। মানে, সে পাল্লার মাথায় ঢুকিয়ে দিতে চায় যে থাবাবাবার ইনফো অমি পিয়ালরা জঙ্গিদের হাতে দিয়েছে। তখন ব্যাপারটা মাথায় আসে নাই, কিন্তু এতদিন সব তথ্যগুলো এক জায়গায় করলে সন্দেহটা তার দিকেই যায় যে থাবাবাবার ইনফো সে-ই লিক করেছে।

এই সন্দেহের পেছনে আরো কিছু কারণ আছে–খেয়াল করে দেখেন, মশিউর বা এই ধরনের আরো অনেক ব্লগার-ফেসবুকার নামধারীরা নাস্তিকতার ভেক ধরে নাস্তিকদের সাথে মিশলেন নাস্তিকতা নিয়ে তার তেমন কোনো উচ্চবাচ্য নেই। বরং উগ্র নাস্তিক এবং যারা লীগ সরকারের সমালোচনা করে তাদেরকে এরা ভালো চোখে দেখে না। শাহবাগ আন্দোলনের সময় এরা উগ্র নাস্তিক পাল্লাকে বলেছিল তারা এমন কিছু করবে না বা করতে চায় না যাতে লীগ সরকারের ক্ষতি হয়, এবং চায় অন্যরাও সেরকম হোক। থাবাবাবা উগ্র নাস্তিক হওয়ার সত্ত্বেও তার সাথে মশিউরের ভালো সম্পর্ক… অন্য উগ্র নাস্তিকদের ভালো না পেলেও থাবাবাবার উগ্রতা নিয়ে কখনো তাকে নিষেধ করে নাই, অর্থাৎ উগ্র হিসাবে থাবাবাবাকে বাড়তে দিয়েছে। হাতের নাগালে রেখে বাড়তে দিয়েছে তাকে পরে বলির পাঠা বানানোর জন্য। এবং শেষ পর্যন্ত যখন দরকার হয়েছে, তখন তাকেই কোতল করা হয়েছে।

৩) শাহবাগ আন্দোলনের পুরা ফসল গেছে লীগ সরকারের ঘরে। আন্দোলনকে দীর্ঘায়িত করার জন্য এই আন্দোলনে জনসংযোগ করার দরকার ছিল। দেশের সাধারণ মানুষ যাতে এটাকে নাস্তিকদের আন্দোলন মনে না করে নিজেরাও যোগ দেয় সেজন্য সরকারের আরো নাস্তিক কোতলের দরকার হয়েছিল, এবং করেও ছিল।

অভিজিৎ রায়কে হত্যা করা হলে পরে আমরা একটা তথ্য জেনে অবাক হয়েছিলাম যে, তার দেশে আসার খবর দেশের কেউ জানত না। তাহলে তার ইনফো লিক হলো কীভাবে! হ্যাঁ, বই মেলায় তিনি যোগ দিলে তখন অনেকে জেনেছিল। কিন্তু ওই জেনে যাওয়ার পরে অত অল্প সময়ে প্লান করে তাকে হত্যা করা সম্ভব নয়। এসব করতে কিছুটা হলেও সময় লাগে। তাহলে কি তার তার দেশে আসার খবর আগে থেকেই কেউ জানত?

আমার সন্দেহটা রায়হান আবিরের দিকে। রায়হান আবির অভিজিৎ রায়ের বইয়ের সহ-লেখক। তিনি দেশে আসবেন আর রায়হান আবির জানবে না, এটা হতে পারে না। আবার রায়হান আবির যে মশিউর রহমান বিপ্লবকে ‘বড় ভাইয়া’ হিসাবে বেশ মানে, সেটাও অজানা নয়। অভিজিতের দেশে আসার ইনফো সে-ই হয়তো মশিউর বাহিনীকে অনেক আগেই দিয়েছিল, বা হয়তো সে নিজেও এই বাহিনীর একজন–কে জানে!

অভিজিৎ রায় কোতলে কে বেশি লাভবান হলো, এই নিয়ে এই রায়হান আবিররা প্রশ্ন তুলেছিল। তারা এক প্রবাসী লেখিকার দিকে মিথ্যে আঙুল তুলেছিল। কিন্তু পরে আমরা দেখলাম, অভিজিৎ রায় কোতলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে রায়হান আবির–সপরিবারে কানাডার এসাইলাম নিয়েছে। অথচ সে এবং মশিউর বলেছিল যে, সে স্কলারশিপ নিয়ে ওখানে পড়তে গেছে, তার এসাইলামের দরকার নেই।

অভিজিৎ রায়কে যেখানে হত্যা করা হয়েছিল, সে জায়গাটা পুলিশের আয়ত্বের মধ্যে ছিল, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ছিল, এফবিআই পর্যন্ত এসে তদন্ত করে গেছে–কিন্তু এত দিন হয়ে গেলেও অপরাধীরা ধরা পড়া বা তাদের বিচার-দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি–কিছুই হয় নি। বাবুর হত্যাকারীদেরকে হাতে-নাতে ধরিয়ে দেয়ার পরেও কিছু হয় নি। দেশের একটা চুরি-ডাকাতিও পুলিশের অগোচরে হয় না। গ্রামগঞ্জের চুরি-ডাকাতির ভাগ পুলিশেরাও পায়। আর কে না জানে, পুলিশের সোর্সের মধ্যে ওসব চোর-ডাকাতেরাও থাকে। সেখানে দিনের আলোতে লোকালয়ে একটার পর একটা নাস্তিক কোতল হয়েছে, আর সরকার পুলিশ প্রশাসন ভেতরের কাহিনী জানবে না, তা কী করে হয়! পলিটিক্স বুঝেন, আর পলিটিক্সের চাল বুঝবেন না, এতটা অবুঝ নিশ্চয়ই আপনারা নন।

৪) এরা কীভাবে কাউকে টার্গেট বানায়, এবং কীভাবে তাদেরকে বেড়ে উঠতে সহায়তা করে তার আরেকটা উদাহরণ–উইমেন-চ্যাপ্টার এবং সুপ্রীতি ধর। উইমেন-চ্যাপ্টার খোলা হয় শাহবাগ আন্দোলনের পর পর। আর মাত্র মাস কয়েক আগে এই ওয়েবসাইট নিয়ে শুরু হয়েছে ক্যাচাল–সুদূর প্রসারী চিন্তাভাবনার ফল। এখানেও সব কলকাঠি নাড়ছে মশিউর রহমান বিপ্লব। একবার শোনা যায়, এই ওয়েবসাইটের পেছনে কারিগরি সহায়তা সব মশিউরের। আবার কৌশলে এই সাইটের বিরুদ্ধে সে-ই কিটিবাদী চ্যাপটাবাদী ইত্যাদি ট্যাগ দিয়ে নেগেটিভ প্রচারণা চালাচ্ছিল। নারীবাদ ইস্যুটাকে উস্কে দিয়ে মাওলানা দূরের পাখির মত ব্লগাররাও মশিউরের ফাঁদে পা দিয়ে ফেলছে। আবার সেই পুরানো কৌশল–ছাগু-ছাগী ট্যাগিং। ফারামির সাথে দেখা করা এবং ছবি তোলার ‘অপরাধে’ শর্মী, শুভদেরকেও ওরকম ছাগু-ছাগী ট্যাগ দিয়ে চেতনাবাজদের উস্কে দিয়েছিল। (মজার ব্যাপার হলো, ফারামির সাথে এই দেখা করা সেই গ্রুপের মধ্যেও মশিউরের নিজের লোক ছিল–শান্ত কৈরী–একে কিন্তু ছাগু ট্যাগ দেয় নাই, বরং এর সাথে সম্পর্ক সবসময় ভালো রয়েছে।) উইমেন-চ্যাপ্টারকে কেন্দ্র করে ক্যাচালেও একই অস্ত্র প্রয়োগ–যেমন, জন্মসূত্রে হিন্দু বৈশালীকে ছাগী ট্যাগ দেয়া (সুব্রত শুভর স্ত্রী ফড়িং ক্যামেলিয়াকেও একবার ছাগী ট্যাগ দিয়েছিল এরা)। সন্ন্যাসী রতনের মত পুরাতন ব্লগাররাও এখানে মশিউরের এই ট্যাগিং-এ আস্থা রেখেছিলেন দেখে বোঝা যায় অন্যদের প্রভাবিত করার ক্ষমতা মশিউরের কতখানি। যা হোক, দাগী ব্লগার-ফেসবুকাররা অনেকেই দেশের বাইরে চলে যাওয়াতে উইমেন-চ্যাপ্টার এবং সুপ্রীতি ধর টার্গেট হয়েছেন–তাকে অনেকদিন ধরে পেলে-পুষে বড় করা হয়েছিল। সামনে ইলেকশন, হয়তো সেই সময় তিনি বলি হতেন। সুপ্রীতি ধর হয়তো সেটা বুঝতে পেরেই দেশ ছেড়ে ভেগেছেন। কিন্তু ওদিকে ‘সব পুরুষ এক না’–এটাকে ইস্যু করে সংগীতা ঘোষদের মত কাউকে কাউকে যদি আবার তলে তলে ‘বলির পাঠা’ হিসাবে গড়ে তোলার প্রোজেক্ট চালু রাখে–অবাক হব না।

এইজন্যই বলছিলাম, কিছু লোক নিজেদেরকে নাস্তিক পরিচয় দেন কিন্তু নিজেরা সেভাবে লেখালেখি করে না, অনেকটা ভদ্রতার মুখোশ পড়ে থাকে, কিন্তু অন্যদেরকে আড়ালে উস্কে দিয়ে সেলিব্রেটি বানায় বা লাইমলাইটে আনার চেষ্টা চালায়, বুঝতে হবে পিছনে কাহিনী আছে। যারা এদের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে আড়ালে থেকে একটিভিটি চালায়, অর্থাৎ ফেইক নিক–তাদের নিয়ে এদের চুলকানি দেখার মত। মিডিয়ায় থাকা রাসেল বাহিনী যখন মাথা গরম করে ফেলে তখন সেই চুলকানিটা প্রকাশ্যে চলে আসে।

ব্লগ-ফেসবুকে স্বার্থ ছাড়া খুব কম লোকই আছে। কে কী চায়, তার সামনে সেইরকম টোপ ব্যবহার করা হয়। যারা এসব করায়, তারাও কারো দ্বারা ব্যবহৃত হচ্ছে, বা বলতে পারেন মশিউররা তাদের দালালির দায়িত্ব পালন করছে। ডিবি পুলিশও তাদের দায়িত্ব পালন করছে। সরকার-প্রশাসনও তাদের দায়িত্ব পালন করছে। তার উপরে? হয়তো সেনাবাহিনী–ডিজিএফআই। তার উপরে? আল্লাহর নামে চালিয়ে দিলে সুবিধা হয়–তেনার ইচ্ছে ছাড়া একটা গাছের পাতাও নড়ে না।

ডিজিএফআই প্রসঙ্গে আগে অনেকবার বলা হয়েছে। এরাই বাংলাদেশের ‘কিং মেকার’-এর ভূমিকা পালন করে। মূলত এরা পাক-আর্মির জাতভাই। কিন্তু পাকিদের রক্ত গরম, এদের সেই তুলনায় ঠাণ্ডা। এরাও যে মনে প্রাণে ইসলামিস্ট–সেটাও প্রমাণিত। (আর্মি কন্যা কুঞ্জকে নিয়ে দেয়া পোস্টটার কথা স্মরণ করা যেতে পারে।) পাক আর্মিরা যা করে সব খোলাখোলি। কিন্তু সেই পথে সমস্যাও অনেক। এখন তারা সবার চোখে কালার হয়ে গেছে। বিদেশি ফান্ড বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের দেশী আর্মিরা আপাতত সামনে আসতে চায় না, কিন্তু তলে তলে সব সুযোগ-সুবিধা, ক্ষমতা ও কলকাঠি তাদের হাতে; তারা গণতন্ত্রের নামে একটা পুতুল সিস্টেম বিশ্বের সামনে শো করে যাতে ইউরোপ-আমেরিকা অন্যান্য সেনা-শাসিত মুসলিম প্রধান দেশগুলোর মত হামলা-মামলা না করে। হাসিনা-খালেদা এদের হাতের পুতুল মাত্র।

অনলাইনেও কে যে কার হাতের পুতুল হয়ে নড়াচড়া করছেন, সেই সাথে সহজ ও নিরাপদ টার্গেটও হয়ে যাচ্ছেন–নিজেরাও হয়তো জানেন না। এই যে অনলাইনে-অফলাইনে নাস্তিকতা, আস্তিকতা, ধর্ম-অধর্ম, নারীবাদ, সাম্যবাদ, পোশাক, ধর্ষণ-নির্যাতন–যত ক্যাচাল বা ইস্যু আছে–এগুলা আসলে তেমন কোনো বিষয়ই না–আমরা হুদাই চিল্লাফাল্লা করি… আর মশিউরের মত যারা এগুলার আসল কাহিনী জানে, তারা এসব ব্যাপারে চুপ থাকে। আপাতত আমাদের চারপাশে যা হচ্ছে, তার মূল বিষয় ক্ষমতা। ক্ষমতাই ক্ষমতার স্বার্থে এসব ইস্যুর জন্ম দেয়।

==========
অনেক বড় লেখা হয়ে গেল। লিখে হয়তো এগুলা সঠিকভাবে তুলে ধরা সম্ভব না। কারণ এখানে আরো অনেক প্রশ্ন উঠবে, সেসব প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা চালাতে হবে, যুক্তি-তর্কে ভুল বা দুর্বলতা থাকলে আরো নানান প্রাসঙ্গিক তথ্য তুলে ধরে সেগুলো যাচাই বাছাই করতে হবে…। আপাতত এইটুকুই…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *