গীতাপাঠ – ০৩ : আত্মা বিষয়ক

পোস্ট # ১

গীতার মতে, আত্মার জন্ম নাই, মৃত্যু নাই; ইনি পুনঃ পুনঃ উৎপন্ন ও বর্দ্ধিত হয়েন না; ইনি অজ (জন্মরহিত), নিত্য, শাশ্বত ও পুরাণ; শরীর বিনষ্ট হইলে ইনি বিনষ্ট হয়েন না। যেমন মনুষ্য জীর্ণ বস্ত্র পরিত্যাগ করিয়া নূতন বস্ত্র গ্রহণ করে, সেইরূপ দেহী (আত্মা) জীর্ণ দেহ পরিত্যাগ করিয়া অভিনব দেহান্তর পরিগ্রহ করেন।

তাহলে প্রাণীর জন্ম-মৃত্যুর হার সমান হওয়ার কথা না? প্রাণীর সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকার কথা না?


পোস্ট # ২

১) আত্মা–জন্ম নাই, মৃত্যু নাই। এক দেহ জীর্ণ হয়ে গেলে সে দেহ পরিত্যাগ করে অন্য দেহ ধারণ করে। আত্মাকে ধরা যায় না, ছোঁয়া যায় না, কাটা যায় না, পোড়ানো যায় না, ডুবানো যায় না… আত্মা সংখ্যায় বাড়েও না, কমেও না। অর্থাৎ দুনিয়ায় আত্মা সংখ্যা ধ্রুব। গীতা এবং গীতা-মান্যকারীদের এই-ই মত।

[উপরের কথাগুলোতে কোনো ভুল থাকলে আগেই অবজেকশন জানান, এবং ভুলটা ধরিয়ে দিন। আগের পোস্টে (ফেসবুক পোস্টের লিঙ্ক) যেহেতু অনেকে প্রশ্ন তুলছেন যে আমরা দুনিয়ার সব প্রাণীর খবর জানি না, তাই কে বিলুপ্ত হলো আর কে জন্ম নিল–সেই হিসাব মানুষের কাছে নাই। তাই আত্মার সংখ্যা যে ধ্রুব নয়, তা আমরা কিভাবে বুঝলাম?]

২) উপরের কথাগুলোকে সত্য বলে ধরে নিয়ে দ্বিতীয় ধাপে আরো কিছু হিন্দু ধর্মীয় তথ্য–আত্মা প্রাণীর মধ্যে তো বটেই, উদ্ভিদেরও প্রাণ আছে–তাই উদ্ভিদের মধ্যেও আত্মা আছে, এছাড়া হিরণ্যকশিপু-নরসিংহ-অবতার কাহিনী থেকে আমরা জানি যে জড় বস্তুর মধ্যেও ঈশ্বর আত্মারূপে বিরাজ করে। শেষ কথা–ঈশ্বর সর্বত্র বিরাজমান; সব কিছুর মধ্যে সে আত্মারূপে বিরাজ করে।

৩) একখণ্ড কাঠ–উপরের তথ্যগুলোর ভিত্তিতে–এই কাঠের মধ্যে ঈশ্বর তথা আত্মা আছে। এখন প্রশ্ন হলো–এই কাঠের মধ্যে আত্মা আছে কয়টা?
এই একখণ্ড কাঠকে যদি কেটে আরো কয়েকখণ্ড করা হয়, তাহলে ঈশ্বরের সর্বত্র বিরাজমানতার ধর্মীয়-তথ্যানুসারে প্রতিটা খণ্ডেই আত্মা থাকার কথা। এই একখণ্ড কাঠ থেকে বহু খণ্ডে একটা আত্মা কিভাবে বহু হল? তাহলে এই নতুন আত্মাগুলো কোথা থেকে এলো?

৪) কাঠের আত্মার বিষয়টা বুঝতে সমস্যা হলে আমরা কেঁচো দিয়ে বিষয়টা বোঝার চেষ্টা করতে পারি। একটি কেঁচোর মধ্যে কয়টি আত্মা থাকে?
কেঁচোকে মাঝখানে কেটে দুই ভাগ করলেও কেঁচোটি মরে না, দুইটা ভাগই সমানে বেঁচে থাকে, লাফাতে থাকে। এই অন্য খণ্ডে নতুন আত্মা এলো কোথা থেকে?

৫) এরপরেও যারা পিছলাবেন, তাদের জন্য ফাইনালি–উপরে আমরা দেখলাম, জড় বস্তুর মধ্যেও ঈশ্বর তথা আত্মা থাকে। তাহলে তো মরা দেহ বা মরা গাছের মধ্যেও আত্মা থাকবে। তাহলে আত্মার “জীর্ণ দেহ পরিত্যাগ করিয়া অভিনব দেহান্তর” প্রক্রিয়াটা কিভাবে হয়?

================
বোনাস প্রশ্ন : সৃষ্টির শুরুতে কয়টা ঈশ্বর তথা আত্মা ছিল?

2 thoughts on “গীতাপাঠ – ০৩ : আত্মা বিষয়ক

  1. পোস্ট # ১

    গীতার মতে, আত্মার জন্ম নাই, মৃত্যু নাই; ইনি পুনঃ পুনঃ উৎপন্ন ও বর্দ্ধিত হয়েন না; ইনি অজ (জন্মরহিত), নিত্য, শাশ্বত ও পুরাণ; শরীর বিনষ্ট হইলে ইনি বিনষ্ট হয়েন না। যেমন মনুষ্য জীর্ণ বস্ত্র পরিত্যাগ করিয়া নূতন বস্ত্র গ্রহণ করে, সেইরূপ দেহী (আত্মা) জীর্ণ দেহ পরিত্যাগ করিয়া অভিনব দেহান্তর পরিগ্রহ করেন।

    তাহলে প্রাণীর জন্ম-মৃত্যুর হার সমান হওয়ার কথা না? প্রাণীর সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকার কথা না?

    —হ্যাঁ থাকার কথা তো ৷ কিন্তু আপনার দৃষ্টি কেবল এই পৃথিবীতেই আবদ্ধ, তাই ব্যাপারটি বুঝছেন না ৷ কেবল জন্মান্তরই নয়, স্বর্গ-নরকেরও ব্যাপার আছে, তাছাড়াও আছে বিভিন্ন লোকে জীবাত্মার গমনের ব্যাপার ৷ ব্যাপারগুলো ভুলে গেলে চলবে?

  2. #পোস্ট-২ এর উত্তর এই যে, ‘আত্মা’ শব্দ দ্বারা আপনি পরমাত্মা ও জীবাত্মা কে গুলিয়ে ফেলেছেন ৷ পরমাত্মা আছেন সকল কিছুর মধ্যে অন্তরাত্মারুপে, জড় বস্তুতেও আছেন, জীবেও আছেন, তিনি এক ৷ একখানা শুষ্ক কাঠেও তিনি আছেন, ঐ কাঠখন্ডকে বহু খন্ড করলেও তিনি বহু হন না, এক-ই থাকেন ৷ জলপূর্ণ একাধিক পাত্রে একাধিক সূর্য দেখা গেলেও মূলত সূর্য এক, তেমনি পরমাত্মাও এক ৷ আর জীবাত্মা একাধিক, দেহান্তরে সে অন্যদেহ লাভ করে ৷ যে বস্তুতে জীবাত্মা আছে সে জীব, অন্যথায় জড় ৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *