পাঁচ ইঞ্চি ব্লগ

ইহা একটি পাঁচ ইঞ্চি ব্লগ। কোনো প্রকার জ্ঞান এবং বিজ্ঞানের সাথে এই পাঁচ ইঞ্চি ব্লগের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো যোগসূত্র নেই। যদি কেউ কোনোভাবে কোনো যোগসূত্র পেয়ে যান, তাহলে সেটা নিতান্তই কাকতাল-বকতাল বলে গণ্য হবে।

আরেকটু ভূমিকা–গীতিপঞ্চক, পঞ্চকন্যা, পঞ্চকর্ম, পঞ্চগঙ্গ, পঞ্চগব্য, পঞ্চগুণ, পঞ্চগৌড়, পঞ্চচামর, পঞ্চতন্ত্র, পঞ্চতপা, পঞ্চতিক্ত, পঞ্চতীর্থ, পঞ্চদশী, পঞ্চধা, পঞ্চনখ, পঞ্চনদ, পঞ্চনদী, পঞ্চনিম্ব, পঞ্চপল্লব, পঞ্চপাণ্ডব, পঞ্চপাত্র, পঞ্চপিতা, পঞ্চপ্রদীপ, পঞ্চপ্রাণ, পঞ্চবটী, পঞ্চবাণ, পঞ্চবায়ু, পঞ্চভূজ, পঞ্চভূত, পঞ্চমকার, পঞ্চমবাহিনী, পঞ্চমহাযজ্ঞ, পঞ্চমুখ, পঞ্চমুখী, পঞ্চরঙ্গ, পঞ্চরত্ন, পঞ্চশর, পঞ্চশস্য… সবশেষে পঞ্চত্ব। এছাড়া যারা হুমায়ূন আহমেদের লেখা পড়েছেন তারা জানেন এই ‘পাঁচ’ সংখ্যাটাকে তিনি প্রায় একটি ‘অলৌকিক’ সংখ্যার মর্যাদা দান করেছেন। তার অনেক লেখাতেই এই পাঁচ সংখ্যা ‘মাহাত্ম্য’ ঘুরে ফিরে আসছে। সেই পাঁচের মাহাত্ম্য নিয়েই এই পাঁচ ইঞ্চি ব্লগ।

ঘটনার সূত্রপাত কয়েকযুগ আগে–বিশু তখন সবে আমেরিকা আসছে, তখন মোবাইল ফোন তো দূরের কথা, ল্যান্ড ফোনেই কথা বলার সুযোগ ছিল না। ফোনে কথা বলতে হলে কয়েকমাইল হেঁটে বা নৌকায় করে গঞ্জে যেতে হতো। টিএন্ডটি অফিস থেকে খবর আসত অমুক দিনে অমুক সময়ে বিশু আবার ফোন করবে, যদি ওই সময়ে উপস্থিত থাকতে পারি, তবেই কথা হবে।

ফোনের বাইরে যোগাযোগের ভালো উপায় ছিল চিঠি। যদিও সেটা পেতে এক মাস-দুই মাস লেগে যেত। তবুও তাই সই। বিশু আমেরিকা যাওয়ার পরে চিঠিতেই বেশি যোগাযোগ হতো। সে যাওয়ার কয়েকমাস পরে চিঠি এলো–আবার পড়াশোনা শুরু করেছে। তার কিছুদিন পর একবার লিখল–কোন এক ইংলিশ রিডিং ক্লাসে ম্যাডাম নাকি একটা মজার প্রশ্ন করেছে–ছেলেরা মেয়েদের থেকে লম্বা হয় কেন–এটা নিয়ে সবাইকে এক প্যারা লিখতে বলছে।

কে কী লিখেছিল, বা বিশু নিজেই বা কী লিখেছিল, সেটা চিঠিতে লিখে নি। কিছুদিন আগে কী এক প্রসঙ্গে এই নিয়ে বিশুর সাথে আবার কথা হয়েছিল। জিজ্ঞেস করেছিলাম সে কী উত্তর দিয়েছিল। বলল, মনে নেই। তারপর হরেক রকমের ‘সাইজ’ নিয়ে নানারকম কথা, মজার কথা, অবৈজ্ঞানিক কথাবার্তার ছড়াছড়ি। এবার সাইজ নিয়ে সেসব কথাবার্তাই একটু তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

বিশুর সেই ইংরেজি রিডিং ক্লাসের ম্যাডামের প্রশ্নটা থেকেই শুরু করি–নারী-পুরুষের উচ্চতা–ওয়ার্ল্ড ডাটা ডট ইনফো-এর সূত্রমতে পৃথিবীর প্রতিটা দেশ বা জাতির নারী-পুরুষের গড় উচ্চতার পার্থক্য সাধারণত পাঁচ ইঞ্চির মতো। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশের পুরুষদের গড় উচ্চতা পাঁচ ফুট সাড়ে চার ইঞ্চি, আর নারীদের গড় উচ্চতা ৪ ফুট সাড়ে এগার ইঞ্চির মতো।
উচ্চতার পার্থক্য পাঁচ ইঞ্চি।

ওই ওয়েবসাইটে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পুরুষদের লিঙ্গের গড় সাইজও দেয়া আছে। গড়ে সর্বোচ্চ সাইজ কঙ্গোর পুরুষদের–৭.১ ইঞ্চি। সর্বনিম্ন কোরিয়ান পুরুষদের–৩.৮ ইঞ্চি। আর বাংলাদেশি পুরুষদের লিঙ্গের গড় সাইজ–৪.৪ ইঞ্চি। পৃথিবীর সব পুরুষদের মধ্যে গড় করলে এই সাইজ হয়তো ৫ ইঞ্চির মতো হবে।

তো ওই যে নারী-পুরুষের উচ্চতার পার্থক্য গড়ে ৫ ইঞ্চি, এর সাথে পুরুষদের লিঙ্গের গড় সাইজ ৫ ইঞ্চির কি কোনো যোগসূত্র আছে? আগেই বলছি এই পোস্টের সাথে জ্ঞান ও বিজ্ঞানের কোনো যোগসূত্র নেই। জ্ঞান-বিজ্ঞান এর কোনো বৈজ্ঞানিক উত্তর দেয় কি না, আমার জানা নেই। বিশুকেও জিজ্ঞেস করছিলাম, সে-ও হেসে ফেলেছিল, অর্থাৎ তারও জানা নেই। যখন সঠিক কিছু জানা নেই, তখন আউল-ফাউল চিন্তাভাবনা করতে ভালোবাসে। সেরকমই কিছু চিন্তাভাবনা নিয়ে বিশুর সাথে মজা করেছিলাম–

সেক্সে আজকাল সবচেয়ে জনপ্রিয় পজিশনটার নাম মিশনারি পজিশন। এই পজিশনে বাচ্চাকাচ্চার জন্মের হার সবচেয়ে বেশি। আবার অনেকের বাচ্চাকাচ্চা না হলে এই পজিশনে চেষ্টা করতে বলা হয়। পৃথিবীজুড়ে এই পজিশনটা জনপ্রিয় করছে খ্রিষ্টান মিশনারিরা। তাদের নামের সাথে মিলিয়েই এই পজিশনের নামকরণ করা হয়েছে। অবাক হওয়ার কিছু নেই–ধর্মগুলো গণতন্ত্রের মতো সংখ্যা দিয়েই জিতে যেতে চেয়েছে চিরকাল। যা হোক, যদি কামসূত্রের যুগে চোখ রাখি, তাহলে বাৎস্যায়ন এই পজিশনটার কথা সেভাবে উল্লেখ করেন নি। মূলত এই পজিশনে দ্রুত বীর্যপাত হয় বলে যারা কামকে উপভোগ করতে চান, তাদেরকে এই পজিশনে যেতে নিরুৎসাহিত করা হয়।

তারপর ভাবছি–আরো আগে…বরফ যুগে… নারী-পুরুষ যখন মেলামেশা করত তখন নিশ্চয়ই আজকালকার মতো লিটনের ফ্যাট আর বিছানাবাদী পাল্লার মতো বিছানা ছিল না। তখনকার দিনে পজিশনগুলো নিশ্চয়ই কোনো পাথরের উপরে বসে, গাছে ঠেস দিয়ে, বা দাঁড়িয়েই বেশি হতো। এই বিষয়ক ভারতীয় পুরাতন যুগের ভাস্কর্য, দেবদেবীদের লীলাবিষয়ক মূর্তি, বা মন্দিরের গায়ে খোঁদাই করা যে পজিশনগুলো দেখা যায়, সেগুলোও বেশিরভাগ ‘স্ট্যান্ডিং পজিশন’। বাৎস্যায়নের কামসূত্রেও নর-নারীর আকার-উচ্চতা নিয়েও অনেক কথা বলা আছে। কোন সাইজের সাথে কোন সাইজের কেমন মিলন হবে, সেসবেরও বিস্তৃত বর্ণনা দেয়া আছে।

তো আগেরকার যুগের সেই স্ট্যান্ডিং পজিশনগুলো নিয়ে ভাবলে এবং সেই সাথে পুরুষের লিঙ্গের গড় আকারের ব্যাপারটা মাথায় রাখলে মনে হয়–পুরুষের চেয়ে নারী গড়ে ৫ ইঞ্চি ছোট না হলে ব্যাপারটা ঠিক জমত না। যাদের এই স্ট্যান্ডিং পজিশনগুলোর ব্যাপারে অভিজ্ঞতা আছে, তারা বুঝবেন নারী যদি পুরুষের চেয়ে বেশি লম্বা হয়ে যায় তাহলে মিলন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। আর দুজনে সমান উচ্চতার হলে পুরুষকে পায়ের আঙুলের উপর ভর দিয়ে মিলিত হতে হবে, তাতে নিজের ‘ব্যালেন্স’ রাখাতেই হিমশিম খেতে হবে, ফলে মিলনটা জমবে না। কিন্তু পুরুষ যদি অন্তত ৫ ইঞ্চি লম্বা হয়, আর তার জননাঙ্গের সাইজ যদি অন্তত ৫ ইঞ্চি হয়, তাহলে স্ট্যান্ডিং পজিশনে ভিতরে সম্পূর্ণ প্রবেশ করেও দুই পায়ের উপর সম্পূর্ণ ভর রেখে ব্যালান্স হারাবে না। হয়তো একারণেই প্রকৃতি এই পাঁচ ইঞ্চির ব্যবধানটাকে এত স্পষ্ট করে দিয়েছে। কিন্তু প্রকৃতি জানতো না যে একদিন তাকে ঘোল খাইয়া লোকে লিটনের ফ্ল্যাট আর পাল্লার খাট আবিষ্কার করে ফেলবে! আরেকটু যোগ করলাম–নারী-পুরুষ হুমায়ুন ফরিদী আর সুবর্ণা মোস্তফার মতো ‘সমান-সমান’ হয়ে যাবে। বিশু হেসে আরেকটু যোগ করল–কিন্তু শেষ পর্যন্ত যখন সম্পর্ক টিকবে না তখন হয়তো প্রকৃতি নিয়ে এই আমাদের মতো আজাইরা প্যাচাল পাড়বে।

আপাত দৃষ্টিতে এই হলো আমার আর বিশুর সেই আজাইরা প্যাচালের অবৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত। এখন এ ব্যাপারে বিজ্ঞান কী বলে, বা বিবর্তনতত্ত্বে নারী-পুরুষের এই উচ্চতার পার্থক্যের কোনো ব্যাখ্যা আছে কি না, জানতে পারলে ভালো লাগবে।

[ফটো ক্রেডিট : pexels.com]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *