খালুজাননামার দ্বিতীয় পর্বের ড্রাফট

[আবার খালুজাননামা লিখতে হলো। কিন্তু কেন, আগের পর্ব না পড়া থাকলে এইটা পড়ে কিছুই না বুঝতে পারেন।]

১) সন্ধির কাহিনী নিয়ে পাল্লা খালুজাননামা লেখে গত বছরের অক্টোবরে। এর আগে তার কাহিনী নিয়ে কেউ কি কিছু লিখেছেন?

২) সামুব্লগের বড় বড় নাস্তিকদের ফেবু গ্রুপে যারা–সন্ধি লাইব্রেরিয়ান, তার কাছ থেকে বই পাওয়া যাবে–এই কথা বলে এড করেছিলেন, সেটা ওই বড় বড় নাস্তিকরাই করেছিলেন। পাল্লা করে নাই। ওই এডের আগে পাল্লা সন্ধিকে চিনতও না।

৩) কোরান-হাদিস-বেদ-ধর্মগ্রন্থ টাইপ করে অনলাইনে রাখা যায় কি না, যা থেকে নাস্তিকদের রেফারেন্স দিতে সুবিধা হবে, এই চিন্তা থেকেই পাল্লা সন্ধিকে ওই গ্রুপের বাইরে আলাদা করে নক করে। এরকম আলাদা আলাদা ভাবে আরো অনেকের সাথেই ইনবক্সে আলাপ। এর মধ্যে সন্ধি আকাম কইরা ধইরা খাইলে সেইখানে পাল্লারে দোষ দেয়ার যুক্তিটা কী?

৪) ৮৪ জনের লিস্টে সন্ধির নাম ওঠার পরে সে এটাকে নিলয় নীলের কারসাজি হিসাবে আমারে বয়ান দেয়। সে তার যুক্তিগুলা তুইলা ধরে যে–আগের লিস্টে তার নাম ছিল না, নিলয় নীল যে অনলাইন পোর্টালে কাজ করে, সেই পোর্টাল থেকে যে লিস্ট বের হয় সেখানে সন্ধির নাম নাকি নিলয় নীল যোগ করে শত্রুতা বশত। এই কাহিনী সাজুর নলেজে দিলে সাজুর সাথে সন্ধির ক্যাচাল হয়।

৫) লিস্টে নাম ওঠার পর পরই সে ফেসবুকে আর খুব একটা পাবলিক হয় নি। তবে মাঝে মাঝে গুগল টকে যোগাযোগ করত, কারণ হিসাবে বলত সরকার নাকি ফেসবুকের সব নজরদারী করছে। গুগল টকে সে প্রায়ই বলত তার বোন অস্ট্রেলিয়া থাকত, সেখান যাওয়ার ট্রাই করছে। অনেকদিন পর আবার মেসেজ দেয় যে অস্ট্রেলিয়া হচ্ছে না, এবং এর পর থেকে আমার যদি কোথাও জানাশোনা থাকে তাহলে সেগুলার রেফারেন্স চাওয়া শুরু করে। সবাই জানেন এসব ব্যাপারে আমার কোনো ক্ষমতা ছিল না, এখনো নেই।

৬) কাউরে বিদেশে যাওয়ার ব্যাপারে হেল্প করতে পারি নাই, এই কারণে যারা বিদেশে গেছে তারা মনে করছে পাল্লা ইচ্ছা কইরাই তাদের হেল্প করে নাই। তারা ক্ষ্যাপা হয়ে পাল্লার সাথে যোগাযোগ অফ করেছে। দেশে যারা আছে তারাও মনে করছে পাল্লা ইচ্ছা কইরা তাদের হেল্প করছে না–এটা অনেকে ইনবক্সে বলেওছে। এমনিতে যোগাযোগ হলে সবাইরে বলতাম যেন বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করে, কারণ তখন একের পর এক নাস্তিক কোতল হচ্ছিল।

৭) সন্ধি এক পর্যায়ে মরিয়া, কিন্তু আমি কিছু করতে পারছি না বলে ইনবক্সের এসেই মুখ খারাপ করত। আমি অফ থাকতাম। শেষে ঈশ্বর কণা নামের মেয়েটা কোলকাতা থেকে যোগাযোগ করে। (খালুজাননামায় এই কাহিনী আছে)

৮) সন্ধি ফের মেসেজ দেয় জার্মান যাওয়ার পরে–তাও মুখ খারাপ করে–কারো সাহায্য না নিয়ে সে একা একাই সব করছে–এসব বলে।

৯) জার্মান গেছে অথচ ইশ্বর কণা মেয়েটার কী হলো, সেটা তখন জানতে পারলাম না। জানতে পারলাম গত বছরের অক্টোবরে–মেয়েটার নাকি আরো অনেক ছেলের সাথে সম্পর্ক আছে, মেয়েটা খারাপ, ইত্যাদ অজুহাতে সে মেয়েটার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। আর তখনই খালুজাননামা লেখা হয়ে যায়।

১০) তমালিকা/অর্পিতার সেই পোস্ট দেখার কথা। দেখেও সে নিজে আরেক ভিকটিম হতে গেলো কেন–এইটা মাথায় আসছে না।

১১) এবার একটা ব্যাপার খেয়াল করেন–সন্ধি যখন থেকেই বিদেশ বিদেশ করছিল, তখন থেকেই পাল্লার সাথে তার যোগাযোগ কমতে শুরু করে। সে ভিতরে ভিতরে কী করেছে না করেছে–এসব কিছুই পাল্লার জানা ছিল না। কিন্তু ওই টাইমে সে নাস্তিক রথী-মহারথীদের প্রায় সব গ্রুপেই ছিল। সেখানে পাল্লা নাই, কারণ পাল্লারে কেউ বিশ্বাস করে না–এ কথা সে বলেছিল। এছাড়া অনেকের সাথেই তার বাস্তবে ঘনিষ্ট সম্পর্ক ছিল–নিধিরামের পোস্ট সত্য হলে দেখা যাচ্ছে তার সাথে সন্ধির এমন সম্পর্ক যে একটা মেয়েকে নিয়ে তাদের বাসায় পর্যন্ত দিনের পর দিন থেকেছে!

১২) নিধিরামের বাসায় মেয়েটার সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্কের ছবি নাকি রাজেশ পাল সংগ্রহ করেছে। এ থেকে কি রাজেশ পালদের সাথে সন্ধির সম্পর্কের গভীরতা মাপা যায় না? এইসব ছবি রাজেশ পালের থেকে পেয়েছে মশুয়া্র। সে আবার তার গ্রুপের মধ্যে ছড়িয়েছে। আর মশুয়ার এসব ছবি ব্যবহার করে উলটা পাল্লার বদনাম করছে। যারা মশুয়ার-রাজেশ পালদের কাছ থেকে সব শুনে বা দেখে এর সাথে পাল্লারে যুক্ত করছেন–আপনাদের যুক্তিটা আসলে কী?

১৩) ছেলে-মেয়েদের মধ্যে মেলামেশার ব্যাপারে আমার কোনোকালেই মাথাব্যথা ছিল না। কেউ তার বিএফ-জিএফ নিয়ে ঘুরে বেড়াবে–এর চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে! কিন্তু নাস্তিকরা মেয়ে নিয়ে নাস্তিকরা ফূর্তি করতে যায়–এই কথা সন্ধি পাল্লাকে প্রথম শুনিয়েছে। ওই যে নাস্তিকরা দলবেঁধে এখানে-ওখানে ঘুরতে যায়–এগুলা নাকি মেয়ে নিয়ে ফূর্তি করা! আর দেশের পূর্বাঞ্চলে এইসবের হোস্ট নাকি বিনয় ভদ্রে। তিনি নাকি সন্ধিকেও বলেছিলেন কাউকে নিয়ে তার ওখানে যেতে, তিনি নাকি থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে দেবেন, যেমন দেন আর সবাইকে… (সত্য-মিথ্যা ভেরিভাই করার অবকাশ আছে হয়তো)… সন্ধিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম–‘আপনি যান না কেন?’ উত্তর–‘আমাকে অত খারাপ মনে করেন নাকি?’ (এটা অবশ্য অনেকটা আগের কাহিনি, শাহবাগ আন্দোলন শুরুর আগেই হবে বোধহয়।)

১৪) (নবযুগ ব্লগের শুরুটা নিয়ে একটা নোট দিয়েছিলাম অনেক আগে, আইডি গায়েব তো সেই নোটও গায়েব…ব্যাকআপ খুঁজে পাচ্ছি না। না পেলে আবার নতুন করে লিখতে হবে সেটা।)

১৫) লাইব্রেরিতে বই কেনার নাম করে অনেকের কাছ থেকে সন্ধি টাকা নিয়েছে, এমন কথা অনেকরে বলতে শুনেছি। এছাড়া দেশ বিদেশের অনেকের কাছ থেকেও টাকা নিয়েছে। খুব সম্ভবত ছন্দা রহমান–আমেরিকান প্রবাসী–তার কাছ থেকেও অনেক নাস্তিক ও লীগারের টাকা খাওয়ার কাহিনী আছে… সন্ধিসাব তার কাছ থেকেও টাকা নিয়েছিলেন, তারপর সেটা দিয়ে ইন্ডিয়াতে শপিং করা–এ নিয়ে একবার ক্যাচাল হয়েছিল–তখনই ওই ছন্দা রহমান থেকে শুরু করে কেউ কেউ জানতে চেয়েছিলেন যে সন্ধিই পাল্লা কিনা–অবাক হওয়ার পালা তখনই শুরু…

============
১৬) সংযোজন : (ছায়াবিথি নামটা মনে পড়ছে! কাহিনী হালকা হালকা মনে পড়ছে। এর বাবামায়ের মনে হয় ডিভোর্স হয়ে গেছিল, বাবা আবার বিয়ে করেছে… বরিশালের দিকে বাড়ি… এরকম কিছু কি?)
এই ছায়াবিথির সাথে তার নিজের সম্পর্কের কথা বলছিল কিনা এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না, তবে এই নামটার সাথে জড়িয়ে অনেক নাস্তিকের কাহিনী বলছিল। (আবারো বলছি–মিচুয়াল সম্পর্ক নিয়া মাথাব্যথা নাই বলে এসব মাথায় ঢুকাই নাই)

১৭) যত ব্লগার আছে, সবচেয়ে বেশি সুবিধা নিছে সন্ধি। সে বউ বাচ্চা নিয়া সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে। এবং যখন হাইডে ছিল তখনও আর সবার চেয়ে সবচেয়ে বেশি ফান্ড পাইছে। সে একাধিক সংস্থার কাছ থেকে ফান্ড নিছে। ওসব দিয়ে সন্ধি কোলকাতায় বেশ জমিয়ে বসেছিল। মশুয়ারের কাছে পাছা বর্গা দেয়া আরেক সাবলাইম খচ্চর রাতমজুর, যার কাছে কিনা আবার সব ব্লগারের নাম ধাম ঠিকানার ডাটাবেজ আছে–সন্ধি বলছিল, সন্ধির বাসাতেও থেকেছে। ভাড়াটাড়া নিয়া এই রাতমজুরের সাথে নাকি সন্ধির সমস্যা হয়েছিল, পরে সন্ধি নাকি তারে বের করে দেয়–এরকম কিছুও শুনেছিলাম। কথা হইতেছে যে এরা তো নিজের চোখে এইসব দেইখা আসছে, তারপরেও পাল্লা আর সন্ধিরে এক করে কেমনে!

***চলবে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *