বিয়ের আড়ালে খেমটা নাচ

বউ জিজ্ঞেস করল, আচ্ছা বিদেশে যাওয়ার পরে একটা মেয়ে মারা গেছে বলছিলে, সে আসলে কীভাবে মারা গেলো, পুলিশ কিছু বলেছে?

তার দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে পারছিলাম না, ভাবছিলাম–আসলেই তো, শেষ পর্যন্ত কী হলো, আপডেট তো জানি না!

আপডেট কী?

অনেকেই বলছিলেন–মেয়েটাকে খালুজান তার যৌনদাসী বানিয়ে রেখেছিল।

বউকে বলছিলাম–আচ্ছা, সুস্থ-সবল পুরুষেরা নারীদের কাছে সেএণ্ডক্স আর খাবার ছাড়া আর কী চায়! মানে রান্নাবান্না করে দেবে, আর যখন দরকার হবে, তখন লাগালাগি– দিতে বাধ্য, মানে সেই দাসী আর যৌনদাসীই তো…

বউ বলে–পুরুষেরা মা’কেও অনেকটা দাসীর ভূমিকায় চায়। মায়ের কাছ থেকে দূরে থাকলে স্ট্যাটাস দেয়–আহা, কতদিন মায়ের হাতের রান্না খাই না। অনেকে মেয়েও এমন আছে অবশ্য। অর্থাৎ খাদ্যের জন্য এরা নারীদের উপর নির্ভরশীল। উপায় থাকলে এক গ্লাস পানিও নিজেরা ঢেলে খেতে রাজি না। আর পুরুষেরা অসুস্থ-দুর্বল হলে বউকেও মায়ের ভূমিকায় চায়। তখন বউ যেন মায়ের মত সেবা-যত্ন করে… আবার মাঝে মাঝে বউকে বোনের মত স্নেহশীল ভূমিকায়ও দেখতে চায়… আবার ধরো তোমরাও কিন্তু মেয়েদের দাস… তোমরা যে মেয়েদের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নাও–এটা তো দাসগিরি করাই… এছাড়া মেয়েরা পুরুষদের আরো অনেক কাজে লাগায়…

নিজের পরিস্থিতি ভেবে কথা ইয়ে মানে ঘোরানের চেষ্টা করছিলাম। কারণ একটু হলেও একটা আঘাত এসে লাগছিল–শত হলেও পুরুষ মানুষ তো! বউকে দাসী-যৌনদাসী (বিয়ের মানেটাই তো তাই, তাই না?)–মুখে স্বীকার না করলেও তলে তলে ভাবতে ভালোই লাগে… (শুধু বিয়েই নয়–যে কোনো সম্পর্কে–তুমি আর কারো নও, তুমি শুধু আমার–এই ভাবনাটাই কি একেবারে কিনে নেয়া দাস-দাসীর মত ব্যাপার নয়?) কিন্তু পরোক্ষভাবে হলেও যখন দাস বলে দিল, তখন… যাক সে কথা…

তো বিয়ে না করে কাউকে যৌনদাসী বানিয়ে রাখা, আর বিয়ে করে কাউকে যৌনদাসী বানিয়ে রাখা–একটা সামাজিক স্বীকৃতি ‘বিয়ে’ ছাড়া আর কী কী পার্থক্য আছে?

মাই বডি মাই রুল্‌স্‌–কজনের বিয়ে করা বউ এই কথাটা বলতে পারে বা নিজের শরীরটা নিজের ইচ্ছে মত ব্যবহার করতে পারে? (যারা বিয়ের পরে সতী-সাবিত্রী হয়ে যান, মানে পতিই একমাত্র গতি মনে করেন, বা যদি মনে করেন যে, বিয়ের পরে কোনো নারীরই আর অন্য পুরুষের জন্যে ইয়ে কাঁপে না, তাহলে আর তর্কের অবকাশ নেই।)

বিয়ে অর্থাৎ ভরণপোষণের বিনিময়ে বউ বানিয়ে যাকে এক প্রকার কিনে নিয়েছেন–দাসী-যৌনদাসী বানিয়ে ফেলেছেন– আবার মেয়েদের দিক থেকে পুরুষদের দাস বানিয়ে রাখা–যদিও মাই বডি মাই রুল্‌স্‌–এই কথাটা পুরুষেরা আদিকাল থেকেই নিজেদের বেলায় চালু রেখেছে (অবশ্য সব পুরুষ এক না)–ব্যাপারটা আসলে কী হচ্ছে! বিয়ের আড়ালে খেমটা নাচ না?

(যেসব নারীপুরুষ নারীর শরীর জিনিসটাকে ঘেন্না করেন, মানে নারীমুক্তি বা নারীবাদে নারীর শরীরের স্বাধীনতা কেন আসবে মনে করেন, নারীর শরীর নিয়ে কথা তুললে চুলকানি ফিল করেন, তাদের যুক্তি পুরুষতন্ত্র আর বংশরক্ষার নিশ্চয়তা–এগুলো জানা আছে। নতুন কোনো যুক্তি থাকলে শুনতে রাজি আছি।)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *